
১১ কেভি ট্রান্সফরমার (11kV Transformer) বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি উচ্চ ভোল্টেজ (11kV) থেকে নিম্ন ভোল্টেজ (যেমন 400V/230V) এ বিদ্যুৎ রূপান্তর করে, যা শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিক ব্যবহারে কাজে লাগে।

ট্রান্সফরমারের বেসিক ধারণা
ট্রান্সফরমার একটি স্ট্যাটিক ডিভাইস যা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশনের মাধ্যমে ভোল্টেজ পরিবর্তন করে।
- Primary Voltage = 11kV
- Secondary Voltage = 400V / 230V
- Frequency = 50Hz
- Phase = 3 Phase
১১ কেভি (11kV) সিস্টেমের বিভিন্ন হিসাব মূলত কিলো-ভোল্ট অ্যাম্পিয়ার (kVA) এবং কারেন্ট (Amps) নির্ণয়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। সাধারণত এই সিস্টেমগুলো ৩-ফেজ (Three-phase) হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে প্রচলিত ১১ কেভি ট্রান্সফরমার সাইজ (kVA Rating)
| ক্রমিক নং | ট্রান্সফরমার ক্ষমতা (kVA) | ধরণ (Type) | ব্যবহার ক্ষেত্র |
|---|---|---|---|
| ১ | ১০ kVA | ১-ফেজ / ৩-ফেজ | পল্লী বিদ্যুৎ (গ্রামাঞ্চলে ছোট লোড) |
| ২ | ১৫ kVA | ১-ফেজ / ৩-ফেজ | ক্ষুদ্র সেচ বা আবাসিক |
| ৩ | ২৫ kVA | ৩-ফেজ | ক্ষুদ্র শিল্প বা আবাসিক এলাকা |
| ৪ | ৩৭.৫ kVA | ৩-ফেজ | ছোট বাণিজ্যিক ভবন |
| ৫ | ৫০ kVA | ৩-ফেজ | ছোট কারখানা বা আবাসন |
| ৬ | ৭৫ kVA | ৩-ফেজ | মাঝারি বাণিজ্যিক এলাকা |
| ৭ | ১০০ kVA | ৩-ফেজ | বহুতল ভবন বা ছোট শিল্প |
| ৮ | ১৫০ kVA | ৩-ফেজ | শিল্প কারখানা |
| ৯ | ২০০ kVA | ৩-ফেজ | মাঝারি শিল্প ও পাম্প |
| ১০ | ২৫০ kVA | ৩-ফেজ | কমার্শিয়াল মার্কেট বা অ্যাপার্টমেন্ট |
| ১১ | ৩১৫ kVA | ৩-ফেজ | স্ট্যান্ডার্ড ডিস্ট্রিবিউশন সাইজ |
| ১২ | ৪০০ kVA | ৩-ফেজ | বড় বাণিজ্যিক ভবন |
| ১৩ | ৫০০ kVA | ৩-ফেজ | মাঝারি গার্মেন্টস বা টেক্সটাইল |
| ১৪ | ৬৩০ kVA | ৩-ফেজ | শিল্প ও বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র |
| ১৫ | ৭৫০ kVA | ৩-ফেজ | বৃহৎ স্থাপনা |
| ১৬ | ৮০০ kVA | ৩-ফেজ | হেভি ডিউটি ইন্ডাস্ট্রি |
| ১৭ | ১০০০ kVA (1 MVA) | ৩-ফেজ | বড় শিল্প কারখানা বা সুপার শপ |
| ১৮ | ১২৫০ kVA | ৩-ফেজ | বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান |
| ১৯ | ১৫০০ kVA | ৩-ফেজ | বৃহৎ বাণিজ্যিক ও শিল্প কমপ্লেক্স |
| ২০ | ২০০০ kVA (2 MVA) | ৩-ফেজ | বৃহৎ শিল্প ও গ্রিড সাবস্টেশন |
| ২১ | ২৫০০ kVA | ৩-ফেজ | বিশেষ শিল্প ব্যবহার |
নিচে ১১ কেভি ট্রান্সফরমার বা লাইনের গুরুত্বপূর্ণ হিসাবগুলো দেওয়া হলো:
৩-ফেজ সিস্টেমে কারেন্ট বের করার সূত্র
ট্রান্সফরমার সাইজ বের করার সূত্র
এখানে:
kW (Kilowatt): সর্বমোট প্রয়োজনীয় পাওয়ার।
PF (Power Factor): ইন্ডাস্ট্রিয়াল বা কমার্শিয়াল ক্ষেত্রে পাওয়ার ফ্যাক্টর সাধারণত ০.৮ (0.8) ধরা হয় (যদি আপনার লোড খুব আধুনিক হয় বা পাওয়ার ফ্যাক্টর ইমপ্রুভমেন্ট প্যানেল থাকে তবে এটি ০.৯ হতে পারে)।
১১ কেভি সাইডে (Primary side) কত কারেন্ট প্রবাহিত হবে তা নিচের সূত্রের মাধ্যমে বের করতে পারেন:
যেহেতু এখানে ভোল্টেজ ১১ কেভি বা ১১,০০০ ভোল্ট, সূত্রটি দাঁড়ায়:
- উদাহরণ: একটি ৫০০ kVA ট্রান্সফরমারের ১১ কেভি সাইডে ফুল লোড কারেন্ট হবে:
১১ কেভি থেকে ৪১৫ ভোল্টে (Secondary) রূপান্তর
আমাদের দেশে সাধারণত ১১ কেভি ভোল্টেজকে ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে কমিয়ে ৪১৫ ভোল্টে আনা হয়। এই ক্ষেত্রে লোড সাইডের কারেন্ট বের করার সূত্র হলো:
- উদাহরণ: একটি ৫০০ kVA ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি (এলটি সাইড) কারেন্ট হবে:
১১ কেভি লাইনের ভোল্টেজ রেগুলেশন [3]
দীর্ঘ দূরত্বের ১১ কেভি ফিডারের ক্ষেত্রে ভোল্টেজ ড্রপ বা রেগুলেশন হিসাব করা জরুরি। এটি সাধারণত নিচের সূত্রের সাহায্যে দেখা হয়:
এটি সাধারণত ৫% এর নিচে রাখা ভালো।
ড্রপ আউট (DO) ফিউজ রেটিং
১১ কেভি ট্রান্সফরমার সুরক্ষার জন্য প্রাইমারি সাইডে যে ড্রপ আউট ফিউজ ব্যবহার করা হয়, তার রেটিং সাধারণত ট্রান্সফরমারের ফুল লোড কারেন্টের চেয়ে কিছুটা বেশি ধরা হয়। [4]
সহজ টিপস:
- HV (11kV) সাইড কারেন্ট বের করতে kVA-কে ১৯.০৫ দিয়ে ভাগ দিন。
- LV (415V) সাইড কারেন্ট বের করতে kVA-কে ১.৩৯ দিয়ে গুণ করুন。 [1, 2]
১১ কেভি সাবস্টেশনের জন্য এইচটি (HT) এবং এলটি (LT) ক্যাবল ও সুইচগিয়ার সিলেকশন মূলত ট্রান্সফরমারের ক্ষমতার (kVA Rating) ওপর নির্ভর করে। নিচে একটি পূর্ণাঙ্গ সিলেকশন গাইড দেওয়া হলো: [1]
এইচটি এবং এলটি ক্যাবল সিলেকশন (Cable Selection)
এইচটি সাইডে সাধারণত XLPE (HT) এবং এলটি সাইডে NYY (LT) ক্যাবল ব্যবহার করা হয়। ক্যাবল সাইজ নির্ধারণের ক্ষেত্রে লোড কারেন্টের পাশাপাশি শর্ট সার্কিট ক্যাপাসিটি এবং ভোল্টেজ ড্রপ বিবেচনা করা হয়।
| ট্রান্সফরমার রেটিং (kVA) [4, 7, 8] | HT Side Cable (11kV XLPE) | LT Side Cable (415V NYY) |
|---|---|---|
| ২৫০ kVA | 3C × ৩৫ mm² / ৭০ mm² | 3.5C × ১৫০ mm² (১ রান) |
| ৫০০ kVA | 3C × ৭০ mm² / ৯৫ mm² | 3.5C × ৩০০ mm² (১ রান) |
| ৬৩০ kVA | 3C × ৯৫ mm² | 3.5C × ৩০০ mm² (২ রান) |
| ৮০০ kVA | 3C × ১২০ mm² | 3.5C × ৩০০ mm² (২ রান) |
| ১০০০ kVA | 3C × ১৫০ mm² | 3.5C × ৩০০ mm² (৩ রান) |
দ্রষ্টব্য: নিরাপত্তার জন্য অনেক সময় এইচটি সাইডে সর্বনিম্ন ৯৫ mm² ক্যাবল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় যাতে শর্ট সার্কিট কারেন্ট সহ্য করতে পারে।
এইচটি সুইচগিয়ার সিলেকশন (HT Switchgear – 11kV)
এইচটি প্যানেল নির্বাচনের প্রধান দুটি বিকল্প হলো LBS (Load Break Switch) এবং VCB (Vacuum Circuit Breaker)। [10]
- VCB Panel: সাধারণত ৬৩০ kVA বা ১০০০ kVA-এর ওপরের ট্রান্সফরমারের জন্য VCB প্যানেল ব্যবহৃত হয়।
- রেটিং: সাধারণত ৬৩০A বা ১২৫০A এবং শর্ট সার্কিট ব্রেকিং ক্যাপাসিটি ২৫ kA (৩ সেকেন্ড)。
- প্রটেকশন: এতে IDMT Relay (ওভার কারেন্ট এবং আর্থ ফল্ট) এবং CT/PT থাকে।
- LBS Panel: ছোট সাবস্টেশনের জন্য এটি সাশ্রয়ী。
- রেটিং: সাধারণত ৪০০A বা ৬৩০A。
- প্রটেকশন: এতে HRC Fuse থাকে যা শর্ট সার্কিট থেকে সুরক্ষা দেয়。 [10, 11, 12, 13, 14]
এলটি সুইচগিয়ার সিলেকশন (LT Switchgear – 415V) [15, 16]
এলটি প্যানেলের প্রধান কাজ হলো লোড সাইডে বিদ্যুৎ বিতরণ এবং সুরক্ষা প্রদান করা। [17]
- Incomer Circuit Breaker:
- ACB (Air Circuit Breaker): ৬৩০ kVA-এর বেশি হলে মেইন ইনকামার হিসেবে ACB ব্যবহার করা হয়।
- MCCB (Molded Case Circuit Breaker): ছোট লোডের ক্ষেত্রে MCCB ব্যবহৃত হয়।
- Busbar: এটি অবশ্যই পূর্ণ লোড কারেন্ট বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন হতে হবে (সাধারণত kVA × ১.৩৯ সূত্র মেনে)।
- PFI Plant: পাওয়ার ফ্যাক্টর উন্নয়নের জন্য এলটি প্যানেলে অবশ্যই PFI (Power Factor Improvement) ব্যাংক রাখতে হয়। [12, 16]
সাধারণ হিসাবের টেবিল:
| Transformer [12, 18, 19] | HT Fuse/Breaker | LT Main Breaker (ACB/MCCB) |
|---|---|---|
| ২৫০ kVA | ২০A – ২৫A (Fuse) | ৪০০A (MCCB) |
| ৫০০ kVA | ৪০A – ৫০A (Fuse) | ৮০০A (ACB/MCCB) |
| ১০০০ kVA | ৬৩০A (VCB) | ১৬০০A (ACB) |
শর্ট সার্কিট ক্যাপাসিটি (Breaking Capacity)
ব্রেকার নির্বাচনের সময় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ব্রেকারটি বিস্ফোরিত না হয়।
সিদ্ধান্ত: আপনার এলটি ব্রেকারের ব্রেকিং ক্যাপাসিটি (Icu) ন্যূনতম ৩৫ kA বা ৫০ kA হতে হবে।
সূত্র:
হিসাব: যদি ট্রান্সফরমারের ইমপেডেন্স ৫% হয়:
ট্রান্সফরমারের Turn Ratio (টার্ন রেশিও) হলো এর প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচ সংখ্যা বা ভোল্টেজের অনুপাত। এটি মূলত ভোল্টেজকে কত গুণ কমানো বা বাড়ানো হবে তা নির্ধারণ করে।
টার্ন রেশিও-র মূল সূত্র
টার্ন রেশিওকে সাধারণত ‘a’ বা ‘K’ দিয়ে প্রকাশ করা হয়:
এখানে:
- V1 = HT সাইড ভোল্টেজ (Primary)
- V2 = LT সাইড ভোল্টেজ (Secondary)
- N1 = HT সাইড প্যাঁচ সংখ্যা
- N2 = LT সাইড প্যাঁচ সংখ্যা
- I1 = HT সাইড কারেন্ট
- I2 = LT সাইড কারেন্ট

১১ কেভি (11kV) সিস্টেমের জন্য টার্ন রেশিও হিসাব
ধরা যাক, আপনার ট্রান্সফরমারটি ১১,০০০ ভোল্ট (HT) থেকে ৪১৫ ভোল্ট (LT) এ রূপান্তর করছে। এটি একটি Step-down ট্রান্সফরমার।
ভোল্টেজ রেশিও হিসাব:
অর্থাৎ, প্রাইমারি সাইডে প্রতি ২৬.৫ ভোল্টের বিপরীতে সেকেন্ডারি সাইডে ১ ভোল্ট পাওয়া যাবে। সহজ কথায়, প্রাইমারি কয়েলে প্যাঁচ সংখ্যা সেকেন্ডারি কয়েলের তুলনায় ২৬.৫ গুণ বেশি হবে।
স্টার-ডেল্টা (Star-Delta) সংযোগের প্রভাব
আমাদের দেশে ১১/০.৪১৫ কেভি ট্রান্সফরমারগুলো সাধারণত Delta-Star (Dyn11) কানেকশনে থাকে। এই ক্ষেত্রে ফেজ ভোল্টেজের হিসেবে রেশিও কিছুটা ভিন্ন হয়:
- HT সাইড (Delta): লাইন ভোল্টেজ এবং ফেজ ভোল্টেজ সমান .
- LT সাইড (Star): লাইন ভোল্টেজ ৪১৫V হলে ফেজ ভোল্টেজ হয়:
প্রকৃত টার্ন রেশিও (Phase wise):
কেন টার্ন রেশিও জানা জরুরি?
১. TTR Test: ট্রান্সফরমার তৈরির পর বা মেরামতের পর Transformer Turns Ratio (TTR) মিটার দিয়ে পরীক্ষা করা হয় কয়েলে কোনো শর্ট সার্কিট আছে কিনা।
২. Tap Changer: ভোল্টেজ কম-বেশি করার জন্য যখন ট্যাপ চেঞ্জ করা হয়, তখন মূলত এই টার্ন রেশিও-ই পরিবর্তন করা হয়।
৩. ইমপেডেন্স ম্যাচিং: সঠিক রেশিও না থাকলে আউটপুট ভোল্টেজ ঠিক থাকবে না, যা মোটরের মতো লোড নষ্ট করে দিতে পারে।
সতর্কতা: টার্ন রেশিওতে অনুমোদিত বিচ্যুতি (Tolerance) সাধারণত ০.৫% এর বেশি হওয়া উচিত নয়।
PFI বের করার হিসাব সমূহ
পিএফআই (PFI – Power Factor Improvement) প্ল্যান্টের হিসাব মূলত আপনার বর্তমান পাওয়ার ফ্যাক্টর (Cos $\phi_1$) থেকে কাঙ্ক্ষিত পাওয়ার ফ্যাক্টর -এ পৌঁছানোর জন্য কতটুকু kVAR ক্যাপাসিটর ব্যাংক লাগবে তা বের করা।
সাধারণত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ০.৯৫ পাওয়ার ফ্যাক্টর বজায় রাখার পরামর্শ দেয়।
এখানে:
- P = আপনার লোড (kW-এ)
- = বর্তমান পাওয়ার ফ্যাক্টর (ধরুন ০.৭৫)
- = কাঙ্ক্ষিত পাওয়ার ফ্যাক্টর (ধরুন ০.৯৫)
সহজ হিসাব (Thumb Rule)
যদি ট্রান্সফরমারের kVA রেটিং থেকে সরাসরি PFI সাইজ বের করতে চান, তবে সাধারণত ট্রান্সফরমার ক্ষমতার ৬০% সাইজের PFI প্ল্যান্ট নেওয়া নিরাপদ ধরা হয়।
- ১০০০ kVA ট্রান্সফরমারের জন্য: PFI প্ল্যান্ট।
- ৫০০ kVA ট্রান্সফরমারের জন্য: PFI প্ল্যান্ট।
গাণিতিক উদাহরণ
আপনার লোড যদি ৫০০ kW হয় এবং বর্তমানে পাওয়ার ফ্যাক্টর ০.৭ থাকে, আপনি এটি ০.৯৫ করতে চান:

হিসাব:
PFI প্যানেলের ক্যাবল ও ব্রেকার সিলেকশন
PFI ব্যাংকের জন্য কারেন্ট বের করার সূত্র:
- উদাহরণ: ১০০ kVAR ক্যাপাসিটর ব্যাংকের কারেন্ট:
- ব্রেকার: কারেন্টের চেয়ে ১.৫ গুণ বেশি রেটিংয়ের ব্রেকার নিতে হয় (ইনরাশ কারেন্ট সামলানোর জন্য)। অর্থাৎ ১৩৯ x ১.৫ = ২১০A বা ২৫০A MCCB।
ধাপ (Steps) বিন্যাস
পুরো kVAR একবারে চালু না করে ছোট ছোট ধাপে (Steps) ভাগ করা হয় (যেমন: ৫, ১০, ২০, ৫০ kVAR)। এতে ভোল্টেজ ফ্লাকচুয়েশন কম হয় এবং সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়।
বাজারে পাওয়া যায় এই রকম ক্যাপাসিটর সাইজ
বাজারে সাধারণত বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড সাইজের ক্যাপাসিটর ইউনিট (Power Capacitors) পাওয়া যায়। PFI প্যানেল তৈরির সময় এই নির্দিষ্ট সাইজগুলো যোগ করে মোট kVAR পূর্ণ করা হয়।
বর্তমানে বাজারে বহুল ব্যবহৃত ক্যাপাসিটর সাইজগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. একক ক্যাপাসিটর ইউনিটের সাইজ (Standard Sizes):
বাজারে সাধারণত নিচের রেটিংয়ের ক্যাপাসিটর ব্যাংক পাওয়া যায়:
- ছোট রেটিং: ১ kVAR, ২.৫ kVAR, ৫ kVAR।
- মাঝারি রেটিং: ১০ kVAR, ১২.৫ kVAR, ১৫ kVAR, ২০ kVAR, ২৫ kVAR।
- বড় রেটিং: ৪০ kVAR, ৫০ kVAR।
২. ভোল্টেজ রেটিং (Voltage Rating):
ক্যাপাসিটর কেনার সময় ভোল্টেজ রেটিং খেয়াল করা খুব জরুরি। বাংলাদেশে সাধারণত ৪১৫V বা ৪৪০V সিস্টেমের জন্য ক্যাপাসিটর পাওয়া যায়:
- ৪১৫V / ৪৪০V: সাধারণ ব্যবহারের জন্য।
- ৪৮০V / ৫২৫V: যদি লাইনে হারমোনিক্স বেশি থাকে বা ডি-টিউনড রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়, তবে বেশি ভোল্টেজের ক্যাপাসিটর লাগানো নিরাপদ।
৩. কনফিগারেশন (Steps Selection):
একটি PFI প্যানেলে সাধারণত ৬, ৮ বা ১২টি ধাপ (Steps) থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার যদি ১০০ kVAR এর একটি PFI প্যানেল লাগে, তবে আপনি নিচের কম্বিনেশনে সাজাতে পারেন:
- ৫ kVAR × ২ টি = ১০ kVAR
- ১০ kVAR × ১ টি = ১০ kVAR
- ২০ kVAR × ৪ টি = ৮০ kVAR
- মোট = ১০০ kVAR
(এভাবে ছোট-বড় ধাপ মেশালে পাওয়ার ফ্যাক্টর খুব সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়)
৪. জনপ্রিয় ব্র্যান্ড (Popular Brands in BD):
বাংলাদেশে সাধারণত এই ব্র্যান্ডগুলোর ক্যাপাসিটর এবং PFI রিলে (Controller) বেশি পাওয়া যায়:
- Epcos (TDK) – জার্মানি/ভারত
- Schneider Electric – ফ্রান্স
- ABB – সুইজারল্যান্ড/ইতালি
- Shizuki – জাপান
- Mikro – মালয়েশিয়া (কন্ট্রোলার এর জন্য জনপ্রিয়)
- Lifasa – স্পেন
পরামর্শ: ক্যাপাসিটর কেনার সময় অবশ্যই Heavy Duty বা Gas Filled টাইপ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করবেন, কারণ এগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়।
Let’s Learn About the Solar System All Metology Sensors